শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন ডেস্ক ॥
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেও স্বস্তির খবর পেল বাংলাদেশ। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেবে না ইরান। বাংলাদেশসহ মোট ছয়টি ‘বন্ধুরাষ্ট্রের’ জন্য এই জলপথ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-কে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাতে এই খবরটি বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
বন্ধুরাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশ
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট কিছু দেশ এবং বিশেষ অনুমোদিত জাহাজের জন্য এই সমুদ্রপথ খোলা রাখা হয়েছে। ইরানের তৈরি করা এই ‘নিরাপদ’ তালিকার দেশগুলো হলো— বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও ইরাক।
আব্বাস আরাগচি বলেন, “পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে এই পথ পুরোপুরি বন্ধ, যা সত্য নয়। অনেক শিপিং কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরা যাদের বন্ধুরাষ্ট্র মনে করি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের জাহাজ ইতোমধ্যেই পার হয়েছে এবং আমি নিশ্চিত বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে।”
নিষেধাজ্ঞার কবলে শত্রু দেশগুলো
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, যারা সরাসরি যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত বা ইরানের শত্রু হিসেবে বিবেচিত, তাদের জন্য এই পথ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কোনো জাহাজ এই পথে চলতে দেওয়া হবে না। এছাড়া যুদ্ধের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে এই পথে দৈনিক অন্তত ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য ইরানের এই সবুজ সংকেত দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।